আমি রাজা নই /কৌশিক চক্রবর্ত্তী

10th September 2021 10:00 pm জেলা
আমি রাজা নই /কৌশিক চক্রবর্ত্তী


আমি রাজা নই

কৌশিক চক্রবর্ত্তী

 

এ শোক আমি নিতে চেয়েছি বারবার

চিৎকার করে বলতে চেয়েছি আমার পিতৃপরিচয়

যারা লুকিয়ে রাখা পাথরের গায়ে লাগিয়েছিল ভাইয়ের প্রতীকী রক্ত

তাদের দিকে আমিই এগিয়ে দিয়েছি খাণ্ডব দহনের সমস্ত অভিযোগ।

ওরা বিষ তুলে নিয়েছিল ধর্মান্ধ তীরের ফলায়

ওরা ঈশ্বরের সামনে রেখেছিল নিজেদের বংশ মর্যাদা-

যুধিষ্ঠিরের দিকে এগিয়ে যাওয়া প্রত্যেকটি তীর ওরা সয়েছিল বুকে।

ওরা ভাই। হয়তবা আমারও।

কিন্তু ওরা মায়ের কোলে সযত্নে রেখে এসেছিল আমার পুড়ে যাওয়া একটা দমবন্ধ খোলস-

জন্ম থেকে এক-একটি দিন আমায় শিখিয়েছে নিঃশ্বাস নিতে

প্রতিদিন দেখিয়েছে নিজের বিপরীতে বেড়ে ওঠা আরও একটি খাঁচার গড়ন...

ছায়ার বদলে আমি আমি একটু একটু করে চেয়ে নিয়েছি সেই উপভোগ্য রেগিস্তান।

ওড়বার বদলে আমি ডানা মেলে আছড়ে পড়েছি হস্তিনাপুরের লুকনো বারান্দায়।

ওরাই চিৎকার করে তুলেছে আমায়

ঝলসানো চোখের পাতায় আমি বারবার খুঁজে দেখেছি ওদের নাম-

জানতে চেয়েছি ওরা আসলে কারা?

ছেলেবেলার অভ্যাসের বাণ যেভাবে বিদ্ধ করতো সহায়সম্বলহীন নীতিকথাদের

গুরু পরশুরামের অভিশাপ যেভাবে মুছে দিয়েছিল দংশনের চিহ্ন

ঠিক সেভাবেই ওদের দরবারে আমি মুকুট পরেছি যুদ্ধের আগে-

আগামী প্রত্যেকটি দিন এই ছিঁড়ে পড়া বাকল থেকে ধীরে ধীরে জন্ম হবে অচেনা সাম্রাজ্যের।

আমার এভাবে রাজা হবার কথা ছিল না-

ভেদ করার কথা ছিল না কুমার অর্জুনের সমস্ত যুদ্ধসাজ-

কিন্তু ওরা চেয়েছিল-

আমায় বিশ্বাস করে বাসুদেবের সুদর্শন কেড়ে সেখানে বসিয়েছিল বিষাক্ত সিংহাসন।

আমি কোনোদিন এই সিংহাসনের দাবীদার নই-

যুদ্ধের এগারোতম দিনে প্রথম অস্ত্র ধারণের আগে আমি নিজেকে একবার সাজিয়েছিলাম সূতপুত্র সাজে,

রথের দড়ির আগায় বসিয়েছিলাম নিজের বিপর্যস্ত ছায়া,

নিজের ঋণগুলো একটা একটা করে সাজিয়েছিলাম তূণে।

কিন্তু ধনুকের ছিলায় এদের বসানোর আগে বন্ধ হয়েছিল বরাদ্দ খাঁচার দরজা-

বন্দি হবার আগে ওরাই পাঠিয়ে দিল খোলাচিঠি আর অব্যবহৃত ঘুণ ধরা ব্রহ্মাস্ত্র...

আমি পারলাম না নিজের রথটুকু দাঁড় করাতে-

কবজকুণ্ডলের ঋণ থেকে একটু বাঁচিয়ে নিজেকে ঘিরে দিলাম আত্মপরিচয়।

এরপর রাজপথে বিছিয়ে রাখা দেহটাকে আপন করে ঘিরে রেখেছিল সেই ওরাই-

শেষমেশ যুদ্ধের সমস্ত সরঞ্জাম ফিরিয়ে দেবার পরে আমি একবার তাকিয়ে দেখেছি ওদের মুখ

ওরা কেউ ধর্মলোভী পান্ডব নয়

ওরা কেউ নয় কৌরব নামক কলঙ্কিত নায়কের ভার

ওরা কেবল আমার দিকে ধেয়ে আসা মাতা কুন্তীর চার চারটি গর্ভের আপোষ।

 





Others News

মহারণের রণক্ষেত্রে তরুণ সমাজ: আধুনিক রাজনীতি ও সমাজ গঠনে নতুন দিশার সন্ধানে ‘International Newstar’

মহারণের রণক্ষেত্রে তরুণ সমাজ: আধুনিক রাজনীতি ও সমাজ গঠনে নতুন দিশার সন্ধানে ‘International Newstar’


কলকাতা | ২০ মার্চ, ২০২৬ বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে আধুনিক সমাজ ও রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের প্রকৃত অবস্থান এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডার আয়োজন করল আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ‘International Newstar’। গত ২০ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক এবং ইউটিউব লাইভের মাধ্যমে সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

তরুণ প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ ও আগামীর পথচলা

‘মহারণের রণক্ষেত্রে তরুণ সমাজ’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে আলোচকরা সমসাময়িক রাজনীতির জটিলতা এবং সামাজিক অস্থিরতার মাঝে তরুণদের লড়াই নিয়ে দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিশদ বিশ্লেষণ করেন। বর্তমান প্রজন্মের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে কীভাবে একটি সমৃদ্ধ সমাজ গড়া সম্ভব, সেই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন বিশিষ্টজনেরা।


আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নক্ষত্ররা তাঁদের মূল্যবান মতামত পেশ করেন:

  • শ্রী জগৎপতি সরকার: এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য ও বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক। তিনি ইতিহাসের নিরিখে তরুণদের নৈতিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন।

  • দেবরাজ সাহা: লেখক ও সম্পাদকীয় বিশ্লেষক হিসেবে তিনি তরুণ মনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন ব্যাখ্যা করেন।

  • বাদল বর্মন: রাজ্য স্তরের হকি খেলোয়াড়, কবি ও সংগঠক। ‘International Newstar’-এর সহ-সভাপতি এবং ‘প্রগতির কলম’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি তরুণদের ক্রীড়া ও সাংগঠনিক দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

  • সাম্যব্রত ভৌমিক: ইস্ট ওয়েস্ট এডুকেশন ইনস্টিটিউটের ছাত্র হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের চাওয়া-পাওয়া ও বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

  • সৌমেন সেন ও সুব্রত চ্যাটার্জী: আন্তর্জাতিক নবনক্ষত্র পত্রিকার সম্পাদক এবং International Newstar-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি যথাক্রমে সংবাদমাধ্যম ও সমাজের সেতুবন্ধনে তরুণদের ভূমিকার কথা বলেন।

  • কল্যাণী: সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা (International Newstar) হিসেবে তরুণদের সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।


সঞ্চালনায় দুই বাচিক শিল্পী

সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে অত্যন্ত সুচারু ও পেশাদারিত্বের সাথে এগিয়ে নিয়ে যান দুই বিশিষ্ট সঞ্চালিকা:

  1. পিয়ালী ভট্টাচার্য: বিশিষ্ট সঞ্চালিকা ও বাচিক শিল্পী।

  2. দিব্যমা রায়: কবি, সাহিত্যিক, বাচিক শিল্পী ও শিক্ষিকা।

তাঁদের প্রাঞ্জল উপস্থাপনা এবং আকর্ষণীয় সঞ্চালনা অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাফল্য

ইউটিউব এবং ফেসবুক লাইভে সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি হাজার হাজার দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। প্রায় এক ঘণ্টার এই আলোচনাটি কেবল একটি আড্ডা নয়, বরং বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গাইডলাইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।