আন্দোলনের চাপে এগরায় একাধিক স্কুলে আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ফি মুকুব

5th August 2021 6:02 pm জেলা
আন্দোলনের চাপে এগরায় একাধিক স্কুলে আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ফি মুকুব


অল ইন্ডিয়া ডিএসও'র আন্দোলনের জয়- এআইডিএসও ছাত্র সংগঠনের ধারাবাহিক আন্দোলনের চাপে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা মহাকুমার অন্তর্গত একাধিক স্কুলে আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ফি মুকুব, বর্ধিত ভর্তি ফি ফেরত দিতে বাধ্য হল স্কুল কর্তৃপক্ষ । ইয়াস বিধ্বস্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় করোনা লকডাউন পরিস্থিতিতে দু'বছর ধরে স্কুল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্কুল সরকারি নির্ধারিত ফি এর বাইরে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি আদায় করছে । একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া সমস্ত ছাত্রের অতিরিক্ত টাকা ফেরত, আবেদনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্ত ফি মুকুব করে ভর্তির সুযোগ করার দাবিতে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এর ফরম ফিলাপ ফি ফেরতের দাবিতে ডিএসও এর পক্ষ থেকে লাগাতার আন্দোলন চলছে । ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন সার্কেলে এস আই অফ স্কুলের নিকট এই দাবিগুলোর ভিত্তিতে বিভিন্ন স্কুলের ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে ডেপুটেশন কর্মসূচি পালিত হয়েছে । বিভিন্ন স্কুলে স্কুলে এআইডিএসও এর উদ্যোগে ছাত্র অভিভাবক সংগ্রাম কমিটি গঠন করে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চলছে । সেই আন্দোলনের চাপে এগরা মহাকুমার অন্তর্গত বিভিন্ন স্কুলে আন্দোলনের জয় হয়েছে বলে ডিএসও ছাত্র সংগঠনের দাবী । বালিঘাই হাইস্কুলে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে সংস্কৃত ও নিউট্রেশন সাবজেক্ট যাদের আছে তাদের কাছ থেকে ভর্তি ফি 1080 টাকা করে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে । যাকে কেন্দ্র করে ডিএসও এর উদ্যোগে ছাত্র অভিভাবক সংগ্রাম কমিটি গঠন করে আন্দোলন গড়ে ওঠে । কমিটির পক্ষ থেকে বিডিও'র কাছে বর্ধিত ফি মুকুবের দাবিতে লিখিত আবেদন জমা দেয়া হয় । যার ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ মাত্র 100 টাকা কনসেশন করে এবং নোটিশ জারি করেছে ছাত্র-ছাত্রীদের 360 টাকা করে ভর্তি হতে বাকি 620 টাকা পরে সামর্থ্য অনুযায়ী নেবে । কিন্তু এই লকডাউন অর্থনৈতিক সংকটে অভিভাবকরা জানায় 240 টাকার বেশি তারা ভর্তি হতে পারবে না । এই দাবির ভিত্তিতে কমিটির পক্ষ থেকে গতকাল এসআই-এস এর সঙ্গে দেখা করে 240 টাকায় ভর্তির লিখিত আবেদন জমা দেন । ধারাবাহিক আন্দোলনের চাপে আজ বালিঘাই হাইস্কুলের স্কুলকর্তৃপক্ষ 240 টাকা করে নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি করাতে বাধ্য হয় । এছাড়াও আন্দোলনের চাপে ছত্রি হাইস্কুলে আবেদনকারী ছাত্র দের কাছ থেকে 150 টাকা, কেউটগেড়িয়া হাইস্কুলে 100 এবং দক্ষিণচক হাইস্কুল 240 টাকার অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার ঘোষণা করেছে ।ডিএসও ছাত্র সংগঠনের জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সঞ্জয় ওঝা বলেন - " আমরা সারা রাজ্য জুড়ে শিক্ষা নানান দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলছি । সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল চালু, আন্দোলনকারীদের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা, শিক্ষায় সর্বস্তরে ফি মুকুব সহ 6 দফা দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে । গোটা জেলা জুড়ে আন্দোলনের জোয়ার সৃষ্টি হওয়ার কারণে স্কুলে স্কুলে আন্দোলনের জয় হচ্ছে। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা স্কুল কর্তৃপক্ষ এরপরে নানান কারণ দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করে এমনকি মার্কশিট আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে তুলতে পারে । এমনিতে ছাত্র-ছাত্রীদের একটা অংশের আশঙ্কা প্র্যাকটিক্যাল এর নাম্বার স্কুল থেকে কমিয়ে দিতে পারে । তাই স্কুলের যেকোনো রকম হঠকারী সিদ্ধান্তকে মোকাবিলা করতে গেলে একমাত্র চাই ছাত্র অভিভাবক সংগ্রাম কমিটি । যার ভিত্তিতে ছাত্রস্বার্থ বিরোধী স্কুলের যেকোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলে একে আটকানো যাবে । ছাত্র স্বার্থে গড়ে ওঠা যেকোনো আন্দোলনে আমরা আমাদের ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে সবরকম সাহায্য করবো ।





Others News

কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন: দুই বাংলার মিলনমেলায় সম্মানিত কবি অম্বরীশ ব্যানার্জী

কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন: দুই বাংলার মিলনমেলায় সম্মানিত কবি অম্বরীশ ব্যানার্জী


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: ১৯৫২ সালের অমর ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার অঙ্গীকার নিয়ে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ারে উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। গত ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, শনিবার কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন ঐতিহাসিক বেঙ্গল থিওসফিক্যাল সোসাইটি হলে এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এশিয়ান কালচারাল একাডেমি তথা আশা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি আক্ষরিক অর্থেই দুই বাংলার কবি, সাহিত্যিক ও গুণীজনদের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। উদ্বোধনী বক্তব্যে ডঃ ঘোষ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘আন্তর্জাতিক আমার ভারত’ পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সম্মিলিতভাবে এই পত্রিকার নতুন সংখ্যাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। পত্রিকাটির সম্পাদক শেখ সাকিল আহমেদ জানান, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসারে এই পত্রিকা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ ও গৌরবময় মুহূর্ত ছিল প্রখ্যাত কবি ও সমাজকর্মী অম্বরীশ ব্যানার্জীর হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া। বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় দীর্ঘদিনের কাব্যচর্চা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁকে উত্তরীয় ও মানপত্র দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। যদিও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে পশ্চিম বর্ধমান জেলার লাইব্রেরিয়ান বিশ্বজিৎ বাউরি মহাশয় মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে পরবর্তীতে তিনি কবি অম্বরীশ ব্যানার্জীর হাতে বিশেষ সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। গুণী এই কবির দীর্ঘায়ু ও সাহিত্যচর্চার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বাঙালি বিশ্বকোষের প্রধান সম্পাদক আব্দুল করিম বলেন, “ইউনেস্কো বাংলা ভাষাকে বিশ্বের সকল ভাষার মা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ৭০০০-এর বেশি ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষার এই গৌরবোজ্জ্বল স্থান আমাদের অহংকার। ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ কেবল আমাদের নয়, সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।”
আশা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সোহেল আখতার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মাতৃভাষা আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। আমরা চাই এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণ সাহিত্যিকদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করতে।”
অনুষ্ঠানে দুই বাংলার বিশিষ্ট নক্ষত্রদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত ছিলেন বরুণ চক্রবর্তী, কবি ড. অনরুদ্ধ পাল, প্রবীণ কবি সত্যব্রত চৌধুরী, কবি ড. আকসার আলী, শান্তিপুর কলেজের অধ্যক্ষ ড. চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কবি ও শিক্ষক কালিচরণ সর্দার, কবি অরূপ সরকার, কবি সুযস কান্তি ঘোষ এবং পুরুলিয়া ডরমুট লাইব্রেরীর লাইব্রেরিয়ান বলাই মন্ডল। এছাড়াও নারী শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব জননী বাংলা ভাষা পত্রিকার সম্পাদিকা সৈয়েদা বেগম এবং শিক্ষিকা সরস্বতী অধিকারী।

বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সাবরিনা ইসলাম নীড়, মোঃ নজিবুর রহমান এবং রাফিয়া সুলতানা। এছাড়াও ডক্টর আকবর আলী, সমাজকর্মী এস এম শামসুল হক, ঝাড়খণ্ডের মথুরাপুর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ আব্দুল রইস খান এবং কবি জয়দেব রায় চৌধুরীসহ শতাধিক কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ অনুষ্ঠানটি চলে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। আমন্ত্রিত কবি ও সাহিত্যিকদের স্বরচিত কবিতা পাঠ, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে পুরো প্রেক্ষাপট এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। পরিশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং কবি অম্বরীশ ব্যানার্জীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।