অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পাঞ্চজন্য সাহিত্য পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশ অনুষ্ঠান

6th October 2021 1:12 am জেলা
অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পাঞ্চজন্য সাহিত্য পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশ অনুষ্ঠান


প্রতিবেদন - পিয়াংকী:- গত 26শে সেপ্টেম্বর 2021 কোলকাতার সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের পাশে হেমন্ত বসু ভবনের বিপ্লবী নলিনী গুহ সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পাঞ্চজন্য সাহিত্য পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশ অনুষ্ঠা ন। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের দু'শদুই ২০২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনও হল ওইদিন।উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি কমল দে শিকদার, কবি বৈজয়ন্ত রাহা এবং কবি ইতিহাসপ্রেমী কৌশিক চক্রবর্তী মহাশয়। কানায় কানায় পূর্ণ দর্শকাসন প্রমাণ দিচ্ছিল সাহিত্য সংস্কৃতি কিভাবে এক যোগসূত্রে বেঁধে বেঁধে রাখে। কবি সাহিত্যিকরা কেও সুদূর শিলিগুড়ি থেকে আবার কেও কোলকাতা এবং তৎসংলগ্ন উপকণ্ঠ থেকেও এসেছিলেন অনেকে। প্রবীণ কবি কমল দে শিকদারের আলোচনা স্মৃতি রোমন্থন এবং অগ্রজ কবি বৈজয়ন্ত রাহার কবিতা সম্পর্কিত খুঁটিনাটি এবং সবুজপত্রিকা বিষয়ক আলোচনা সমৃদ্ধ করেছিল উপস্থিত শ্রোতাদের। কবি ইতিহাসপ্রেমী কৌশিক চক্রবর্তীর বিদ্যাসাগর মহাশয় প্রসঙ্গত সুচারু বক্তব্য অবশ্যই আলাদা করে প্রশংসার দাবী রাখে,সাথে বলতে হয় তার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে গাওয়া গান যা ছিল সকলের উপরি পাওনা। তাঁর মুখেই শোনা গেল উক্তদিনটি ছিল কিংবদন্তি গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী 

" পাঞ্চজন‍্য সাহিত্য পত্রিকা " র কর্ণধার সম্পাদক অর্ণব সান্যাল এবং সহসম্পাদক মণ্ডলীর এই প্রয়াস বিশেষ দক্ষতার সাথে আয়োজিত হল, তৎসহ মন ছুঁয়ে গেল পত্রিকার দুটি বৈপ্লবিক কর্মসূচি।

এক, মাটির স্তর থেকে কবি সাহিত্যিকদের উঠিয়ে আনা যেমনভাবে পাওয়া গেল কবি মহাদেব নস্করকে। যিনি পেশায় রিক্সাচালক এবং একজন বাম কর্মী হবার পরও নেশায় এবং মননে একজন প্রকৃত কবি। প্রকাশিত হল মহাদেব নস্করের একক কাব্যগ্রন্থ সহ একগুচ্ছ বই। দুই, শারদ সংখ্যাপত্রিকায় বিনিময়মূল্যের অনুপস্থিতিও বিরাটভাবে নজর কাড়লো। বই বিষয়ক অনুদান মূল্য দুস্থ কবি আর শিশু কল্যাণে ব্যবহার হবে সেই অঙ্গীকার নেয়া হল।ছিল কবিতা পাঠের এক বর্ণময় আয়োজন, উদ্যোক্তাদের নিপুণ পরিকল্পনা মাফিক কর্মসূচি ভরিয়ে দিল করতালিমুখর এক দুপুর 

প্রকৃতির ঝরঝর বর্ষণমুখর রূপ এবং সঠিক পদ্ধতি মেনে স্যাটাইজেশন , সর্বোপরি একসাথে অনেক মানুষের উপস্থিতি সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে গেল আরো এক ধাপ। ভবিষ্যৎ পাঞ্চজন্য'র রইল শুভেচ্ছা শুভকামনা।

 





Others News

কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন: দুই বাংলার মিলনমেলায় সম্মানিত কবি অম্বরীশ ব্যানার্জী

কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন: দুই বাংলার মিলনমেলায় সম্মানিত কবি অম্বরীশ ব্যানার্জী


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: ১৯৫২ সালের অমর ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার অঙ্গীকার নিয়ে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ারে উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। গত ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, শনিবার কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন ঐতিহাসিক বেঙ্গল থিওসফিক্যাল সোসাইটি হলে এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এশিয়ান কালচারাল একাডেমি তথা আশা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি আক্ষরিক অর্থেই দুই বাংলার কবি, সাহিত্যিক ও গুণীজনদের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। উদ্বোধনী বক্তব্যে ডঃ ঘোষ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘আন্তর্জাতিক আমার ভারত’ পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সম্মিলিতভাবে এই পত্রিকার নতুন সংখ্যাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। পত্রিকাটির সম্পাদক শেখ সাকিল আহমেদ জানান, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসারে এই পত্রিকা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ ও গৌরবময় মুহূর্ত ছিল প্রখ্যাত কবি ও সমাজকর্মী অম্বরীশ ব্যানার্জীর হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া। বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় দীর্ঘদিনের কাব্যচর্চা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁকে উত্তরীয় ও মানপত্র দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। যদিও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে পশ্চিম বর্ধমান জেলার লাইব্রেরিয়ান বিশ্বজিৎ বাউরি মহাশয় মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে পরবর্তীতে তিনি কবি অম্বরীশ ব্যানার্জীর হাতে বিশেষ সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। গুণী এই কবির দীর্ঘায়ু ও সাহিত্যচর্চার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বাঙালি বিশ্বকোষের প্রধান সম্পাদক আব্দুল করিম বলেন, “ইউনেস্কো বাংলা ভাষাকে বিশ্বের সকল ভাষার মা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ৭০০০-এর বেশি ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষার এই গৌরবোজ্জ্বল স্থান আমাদের অহংকার। ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ কেবল আমাদের নয়, সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।”
আশা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সোহেল আখতার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মাতৃভাষা আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। আমরা চাই এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণ সাহিত্যিকদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করতে।”
অনুষ্ঠানে দুই বাংলার বিশিষ্ট নক্ষত্রদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত ছিলেন বরুণ চক্রবর্তী, কবি ড. অনরুদ্ধ পাল, প্রবীণ কবি সত্যব্রত চৌধুরী, কবি ড. আকসার আলী, শান্তিপুর কলেজের অধ্যক্ষ ড. চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কবি ও শিক্ষক কালিচরণ সর্দার, কবি অরূপ সরকার, কবি সুযস কান্তি ঘোষ এবং পুরুলিয়া ডরমুট লাইব্রেরীর লাইব্রেরিয়ান বলাই মন্ডল। এছাড়াও নারী শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব জননী বাংলা ভাষা পত্রিকার সম্পাদিকা সৈয়েদা বেগম এবং শিক্ষিকা সরস্বতী অধিকারী।

বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সাবরিনা ইসলাম নীড়, মোঃ নজিবুর রহমান এবং রাফিয়া সুলতানা। এছাড়াও ডক্টর আকবর আলী, সমাজকর্মী এস এম শামসুল হক, ঝাড়খণ্ডের মথুরাপুর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ আব্দুল রইস খান এবং কবি জয়দেব রায় চৌধুরীসহ শতাধিক কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ অনুষ্ঠানটি চলে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। আমন্ত্রিত কবি ও সাহিত্যিকদের স্বরচিত কবিতা পাঠ, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে পুরো প্রেক্ষাপট এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। পরিশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং কবি অম্বরীশ ব্যানার্জীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।